Submit your Article

    লেখা পাঠাবার ইমেইল:

parisvisionnews@yahoo.com

Bangla version

Member login

Notice Board

দৃষ্টি আকর্ষণ
 লেখা আহবান 
আপনার প্রিয় প্যারিস ভিশন নিউজ ডটকমের জন্য লেখা পাঠাবার আহবান খবর,গল্প,প্রবন্ধ,কবিতা,ভ্রমন কাহিনী ইত্যাদি আজ ই পাঠিয়ে দিন
Email:parisvisionnews@yahoo.com

 

বাংলাদেশ সংবাদ

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম এখন দুঃসময়ের মুখোমুখি

PDFPrintE-mail

বাংলাদেশ সংবাদ - Political news

Saturday, 25 May 2013 22:44

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম এখন দুঃসময়ের মুখোমুখি
রবিবার, ২৬ মে ২০১৩

মানবজমিন ডেস্ক: বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম এখন দুঃসময়ের মুখোমুখি- এ উদ্বেগ জানিয়ে লন্ডনের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্ট গত ২৫শে মে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি এ রকম: বলা হয় ভারতীয় মিডিয়া প্রকৃত সত্যের ১০০ ভাগেরও বেশি দিয়ে থাকে  তার পাঠকদের। কিন্তু প্রতিবেশী বাংলাদেশে পাঠকরা এর চেয়ে কম পেতেই অভ্যস্ত। উদ্বেগের বিষয় এই যে, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম এখন দুঃসময়ের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। এ সপ্তাহে সংবাদপত্রের সম্পাদকরা একটি যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত বিরোধীদলীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুুক্তি দাবি করেছেন সরকারের কাছে। সরকার ওই পত্রিকাটি গত ১১ই এপ্রিল থেকে বন্ধ এবং ওই সম্পাদককে তারপর থেকে আটক করে রেখেছে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ওই বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘সম্পাদকদের আবেদন সংবাদপত্রের স্বার্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।’ সম্পাদকরা মাহমুদুর রহমানের ‘আমার দেশ’ ফের ছাপানোর অনুমতি দিতে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে তারা দু’টি টিভি স্টেশনকে ফের সমপ্রচারের অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্পাদকদের ওই দাবি সরকারও প্রত্যখ্যান করেছে। কট্টর ইসলামপন্থি প্রতিবাদীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান সরাসরি সমপ্রচার করার পর থেকে ওই দু’টি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ওই অভিযানে কয়েক ডজন মানুষ মারা যান। 
বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমের পরিবেশ ক্রমশ খারাপ হয়ে ওঠায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় নিবেদিত সংগঠন দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় একটিমাত্র দেশ আছে যেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে বাংলাদেশের চেয়ে কম মর্যাদা দেয়া হয়। সেই দেশটি শ্রীলঙ্কা। 
নিশ্চিতভাবে বলা যায়, পিছলে সবার নিচে চলে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সামনে কিছু পথ এখনও খোলা আছে। এখনও গভীর রাতে রাজনৈতিক টক শো হয়, যা ব্যাপক জনপ্রিয়। সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশে সংবাদপত্র বিকশিত হয়ে উঠছে নানাভাবে। কিন্তু গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ঘটনার সূত্রে সরকারের যে আচরণ দেখা যাচ্ছে তা  গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হয়েই আসছে। 
গত এপ্রিলে সরকার যখন চারজন নাস্তিক ব্লগারকে গ্রেপ্তার করে তখন ক্ষুদ্র একটি কট্টরপন্থি ইসলামিক গ্রুপের দাবি সরকার মেনে নিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। যারা ইসলামের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেছে সরকার তাদের শাস্তি দেয়ার কথাও বলেছিল। কিন্তু এ মাসে টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে কারিগরি সরঞ্জামের জন্য - যা দিয়ে তারা ইন্টারনেটের ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। ইন্টারনেটে ক্ষতিকর উপাদান ও জাতীয় ঐক্য, সংহতির প্রতি হুমকি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস অথবা আপত্তিকর এমন সব বিষয় থেকে বাংলাদেশকে নিরাপদ রাখা এ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য।  
বাংলাদেশের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতোই বাংলাদেশের মিডিয়া এদেশের পরস্পর বিদ্বেষী দুই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারদের কোন না কোন পক্ষের সমর্থক। বছর শেষে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। তাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের লড়াই দিনে দিনে কঠোর থেকে কঠোরতর হয়ে উঠছে। 
মাহমুদুর রহমান সাবেক ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ইদানীং তার সম্পাদিত পত্রিকা হট কেকের মতোই বিক্রি হচ্ছিল। সরকার এ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়ার আগের কয়েক মাসে এর প্রচার সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল ৬ গুণ। প্রতিদিন বিক্রি হয়েছে ২ লাখ কপি। 
মাহমুদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে। গত ডিসেম্বরে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের এক চেয়ারম্যান ও ব্রাসেলস ভিত্তিক এক আইনজীবীর স্কাইপ সংলাপ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছিলেন পত্রিকায়। সেখান থেকেই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের সূত্রপাত। ওই সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, বিচারক, প্রসিকিউটর ও আদালতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এক রকম বোঝাপড়া ফাঁস হয়ে পড়ে। সব কিছু মিলিয়ে এ থেকে ওই আদালতের বিচারের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ইকোনমিস্ট এ সংলাপের বিষয়ে ও ব্যক্তিগত অনেক ই-মেইল প্রকাশ করে এবং এ  নিয়ে প্রশ্ন করার পর আদালতের তখনকার চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। ওদিকে মাহমুদুর রহমান বলেছেন, নিরাপত্তা হেফাজতে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তবে সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 
আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদরা তীব্র সমালোচনা করেছেন মাহমুদুর রহমানের। কাউকে প্রভাবিত করতে তার প্রায় অলৌকিক ক্ষমতা আছে- এমন কথাও তাদের কেউ কেউ বলে থাকেন তার সম্পর্কে। তারা মনে করেন, তিনি যে কোন বিষয়ে জনগণকে উসকে দেয়ার বিশাল ক্ষমতা রাখেন। বিশেষত, বিএনপির সর্বশেষ সরকার অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ ছিল বলে তিনি জনগণকে বোঝাতে পেরেছিলেন। অথচ ওই সময়ে অনেকেই, বিশেষত আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরা, চরম পর্যায়ের দুর্নীতিতে জড়িত ছিল। ৫ বছর ধরে, বাংলাদেশ ছিল আন্তর্জাতিক দুর্নীতির একেবারে নিম্ন পর্যায়ে। 
এছাড়া মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় হিংসা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী ব্লগে প্রকাশিত আপত্তিকর লেখা তার পত্রিকায় পুনঃপ্রকাশ হয়েছে। সমালোচকরা বলেন, শান্তিপূর্ণ একটি গণ-আন্দোলনের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে তিনি এমনটা করেছেন। ওই গণ-আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রায় পুরো নেতৃত্বের মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়েছে। গত মাসে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে কয়েক লাখ ইসলামপন্থির ‘লং মার্চ’ আয়োজনেও মাহমুদুর রহমান সাহস যুগিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ লং মার্চ থেকে নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি দাবি করা হয়। অভিযোগ করা হয় তারা ইসলামের অবমাননা করেছে। 
যে প্রধান অপরাধে অভিযোগ গঠন করা হয় তার চার মাস পর মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারের আসল কারণ সম্ভবত অন্য কিছু। 
তাকে আটক করার আগের দিন ‘আমার দেশ’ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের আমলের ঘটনাবলী সম্পর্কে মার্কিন দূতাবাসের কূটনৈতিক তারবার্তা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। ওই ঘোষণা দেয়া হয় তাদের ওয়েবসাইটে। বলা হয়, উইকিলিকস-এ প্রকাশিত গোপন বার্তা সিরিজ আকারে তারা বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করবেন। এর শিরোনাম হবে ‘মুজিব: দ্য নিউ মুঘল’। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একদলীয় শাসন চালুর জন্য ‘চেয়ারম্যান মুজিব’ একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ে নেন- সেদিকেই এ ইঙ্গিত। 
উইকিলিকসের আরেকটি বার্তায় বলা হয়েছে, শেখ মুজিবের মাথায় একনায়ক হয়ে ওঠার ভূত চেপে বসেছিল। বাঙালিদের আকাঙক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়ে তিনি ব্যক্তিগত ও বংশগত শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ব্যাপকভাবে ক্ষমতা নিতে চেয়েছিলেন নিজের হাতে। 
ওই তারবার্তার ভাষ্য ও মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের সময় দেখে মনে হয় সরকার মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিকে টিকিয়ে রাখতে। এমন চাপে বাংলাদেশের যে প্রতিষ্ঠান প্রথমেই ভেঙে গুঁড়িয়ে যেতে পারে তা অবশ্যই মিডিয়া।

 

সরকার ও ভারতপন্থীদের টার্গেট মাহমুদুর রহমান : লেখা ও পত্রিকা সম্পাদনাই অপরাধ

PDFPrintE-mail

বাংলাদেশ সংবাদ - Political news

Saturday, 25 May 2013 22:35

সরকার ও ভারতপন্থীদের টার্গেট মাহমুদুর রহমান : লেখা ও পত্রিকা সম্পাদনাই অপরাধ

ইলিয়াস হোসেন
আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রঘাতী নীতি এবং বাংলাদেশকে করদরাজ্যে পরিণত করার ভারতীয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়ার কারণেই বর্তমান সরকার ও তাদের সমর্থক ভারতপন্থীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন আমার দেশ-এর মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। 
মাহমুদুর রহমানের ওপর সরকার ও ভারতপন্থীদের বিদ্বেষের কারণ এই যে, তিনি এ দুই শক্তির বিরুদ্ধে গবেষণাধর্মী ও তথ্যবহুল লেখালেখিতে জড়িত ছিলেন। এতে তার প্রতিটি লেখাই হয়েছে পাঠকননন্দিত। 
অন্যদিকে মাহমুদুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত আমার দেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অপশাসন এবং ভারতের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্যবহুল রিপোর্ট প্রকাশ করে আমার দেশ পায় ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা। 
মাহমুদুর রহমান আমার দেশ-এর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রচার সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম দৈনিকে পরিণত হলে সরকার তাকে গ্রেফতার করে এবং বেআইনিভাবে আমার দেশ বন্ধ করে দেয়। আদালতের রায়ে পুনঃপ্রকাশের পর আবারও তার সম্পাদনায় আমার দেশ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দৈনিকে পরিণত হয়। এরপর সরকার আবারও তাকে গ্রেফতার করে এবং আমার দেশ এর প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়।
মাহমুদুর রহমানের সম্পাদনায় আমার দেশ আওয়ামী লীগ সরকারের শেয়ারবাজার লুটপাট, ক্রসফায়ার ও গুমসহ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারিসহ বেপরোয়া দুর্নীতি, বিচার বিভাগকে চরমভাবে দলীয়করণ, যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাজানো রায়ের কাহিনীসংবলিত স্কাইপ কেলেঙ্কারি, প্রশাসনকে দলীয়করণ ও জেলাকরণ, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের দুর্নীতিসহ অসংখ্য বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশ ও দেশের বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি করে। 
এরই পাশাপাশি তিনি শাহবাগিদের মুখোশ উন্মোচন করে ‘গণজাগরণ’ মঞ্চকে কার্যত একটি মৃতপ্রায় সংগঠনে পরিণত করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন। ইসলামের পক্ষে আমার দেশ-এর নৈতিক অবস্থান এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পক্ষে মাহমুদুর রহমানের উদ্দীপনামূলক বিরামহীন লেখনী দেশে এমন একটি ইসলামি গণজাগরণ তৈরি করে যে, তা এ ভূখণ্ডে গত কয়েক যুগেও দেখা যায়নি। এতে দেশে ইসলামি গণজাগরণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নীরব বিপ্লব সূচিত হয়। এর চূড়ান্ত প্রকাশ দেখা যায় হেফাজতে ইসলামের পক্ষে দেশের কোটি কোটি মানুষের অবিচল সমর্থনে। 
মতিঝিলে গণহত্যা চালিয়ে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকে সরকার সাময়িকভাবে দমন করলেও দেশব্যাপী এ সংগঠনটি যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তা অকল্পনীয়। হেফাজতের উত্থানে পশ্চিমা দুনিয়াও বিচলিত বোধ করেছে। আওয়ামী লীগ আর তার সহযোগী শক্তি তাই হেফাজত নিধনে বর্বর শক্তি প্রয়োগ করেছে।
বস্তুত ইসলামি এ গণজাগরণে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীরা শুধু শঙ্কিতই হয়নি, তারা তাদের রাজনৈতিক আদর্শের মৃত্যুক্ষণ গণনা শুরু করে।
মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের বৃহত্ প্রতিবেশী ভারতের কাছে আওয়ামী লীগের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। ভারতের পানি ও ভূমি আগ্রাসন, বাংলাদেশবিনাশী টিপাইমুখ বাঁধ, সিলেট সীমান্তে লংমার্চ, ট্রানজিটের বিরোধিতা, তার নেতৃত্বে তিতাস অভিমুখে রোডমার্চ ও ভারতের পণ্য পরিবহনের জন্য তিতাস নদীর মাঝে নির্মিত বাঁধ কেটে দেয়া, আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণার মাধ্যমে তিনি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে প্রবল জনমত তৈরিতে সক্ষম হন। এ কারণে তিনি ভারতের চক্ষুশূলে পরিণত হন। 
তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিভাবে চরম বেকায়দায় পড়ে এবং তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। 
ভারতের কাছে আওয়ামী লীগের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের কারণে ভারত একের পর পর এক বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। 
বাংলাদেশের সার্ভভৌমত্বকে উপেক্ষা করেই ভারতকে করিডোর আর ট্রানজিট দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের নতজানু নীতির কারণে বিএসএফের গুলিতে শত শত নিরীহ বাংলাদেশী নিহত হন। এসব রোধ করা তো দূরের কথা, প্রতিবাদ করার মতো সাহসটুকওু দেখায়নি আওয়ামী লীগ সরকার; বরং সীমান্ত হত্যার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ আওয়ামী লীগ নেতারা। 
২০১১ সালের ১৯ জুন ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিউশনে এক সেমিনারে প্রথমবারের মতো মাহমুদুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের শেয়ারবাজার লুটের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। 
২০১১ সালের রোডমার্চ করে তিনি তিতাস পর্যন্ত গিয়ে নদীর বাঁধ কেটেই ক্ষান্ত হননি, নদীর মাঝে বাঁধ দেয়ায় তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেন এবং তার আবেদন অনুযায়ী আদালত সরকারের ওপর রুল জারি করে। 
মাহমুদুর রহমানের অসমসাহসী লেখনীও তার জন্য কাল হয়েছে। আমার দেশ-এ গত কয়েক মাসে তার কয়েকটি মন্তব্য প্রতিবেদনের শিরোনাম দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যায়। যেমন কয়েকটি শিরোনাম ছিল এ ধরনের—পশ্চিমা দুনিয়ার ইসলাম ফোবিয়া এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্রমেই বেগবান হচ্ছে সাংস্কৃতিক বিপ্লব, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখতে ইতিহাস জানা দরকার, নাস্তিকতার আবরণে ইসলামবিদ্বেষ, রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিদেশনির্ভরতা, সর্বত্র প্রতিরোধ চাই, মুসলমানের মানবাধিকার থাকতে নেই, জয় আসলে ভারতের, আন্তর্জাতিক পানি আইনের আলোকে ভারত-বাংলাদেশের পানিবণ্টন বিরোধের ইতিহাস; সীমান্ত হত্যা, পানি আগ্রাসন এবং বিরোধী নেত্রীর দিল্লি সফর; দুর্নীতির মহোত্সব ও সুশাসনের কফিন, জঙ্গিতত্ত্ব ফেরি করে সাম্প্রদায়িকতা আমদানি, জনদুর্ভোগে বিরোধী দলের নীরবতা, সরকার প্রধানের ইউনূস ফোবিয়া ও সুশীল রাজনীতি, শাসক করে দুর্নীতি মাশুল দেয় জনগণ, বল্গাহীন দুর্নীতি ও ম্রিয়মাণ টিআইবি, দুর্নীতিসহায়ক অপচয়ের বাজেট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচ্ছৃঙ্খল পুলিশ, গণতন্ত্রবিনাশী পঞ্চদশ সংশোধনী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বব্যাপী নৈরাজ্য, গুমরাজ্যে প্রত্যাবর্তন, ছিটমহলবাসীর বঞ্চনা, বন্ধু ভারতের পানি আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত, ভারতবন্ধুরা কাছা খুলে নেমেছে, জেগে উঠছে বাংলাদেশের তরুণ, ডিজিটাল দুর্নীতির জয়জয়কার, চুরি করলে ইজ্জত যায় না, আবদার মিটেছে অধিকার মেলেনি, অধীনতামূলক মিত্রতা চুক্তি, ভারতের ভূমি আগ্রাসন, সুশাসন নির্বাসনে, ভারতের ট্রানজিটে বাংলাদেশের ফায়দা নেই, বাংলাদেশে আক্রান্ত ইসলাম ইত্যাদি। 
তার লেখা এসব নিবন্ধ এবং ইস্যুতে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আওয়ামী লীগকে কার্যত জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এতে ফল হয় এই যে, সরকার সমর্থক একটি পত্রিকার জরিপেও ৯০ শতাংশ লোক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে জোরালো সমর্থন দেন। ঘুরিয়ে বললে দাঁড়ায়, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা নেই।
আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে যতই বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আমার দেশ এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর ততই নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে গত ১১ এপ্রিল। এদিন সাজানো মামলায় আমার দেশ অফিস থেকে কমান্ডো স্টাইলে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে ১৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। সেদিন সন্ধ্যায় বন্ধ করে দেয়া হয় আমার দেশ-এর ছাপাখানাও। এরপর রিমান্ডে তার ওপর চলে বর্বর নির্যাতন। এতে তার জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে তিনি বন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিত্সাধীন।(Amardesh)
 

সংখ্যাগরিষ্ঠ নাস্তিক চীনে, আস্তিক ঘানায়

PDFPrintE-mail

বাংলাদেশ সংবাদ - Political news

Saturday, 25 May 2013 10:04

সংখ্যাগরিষ্ঠ নাস্তিক চীনে, আস্তিক ঘানায়

 
 

বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা দুদুর অবরুদ্ধ দিনলিপি

PDFPrintE-mail

বাংলাদেশ সংবাদ - Political news

Saturday, 25 May 2013 09:45

দুদুর অবরুদ্ধ দিনলিপি
শনিবার, ২৫ মে ২০১৩

কাজী সুমন: দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন পার করছেন বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু। তিনি এখন দলের দপ্তরের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে দলীয় কার্যালয়েই তিনি থাকছেন। গত ৪৫ দিনের মধ্যে এক দিনের জন্যও তিনি বাইরে যাননি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ফোনে, স্কাইপে। এর আগে দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ অবস্থায় দলীয় কার্যালয়ে ছিলেন। গত ১১ই মার্চ বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের দিনে তাকেও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দলের দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেন আরেক যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাকেও গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর থেকে দলের দপ্তরের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন শামসুজ্জামান দুদু। গত ৯ই এপ্রিল নয়াপল্টনের বিএনপির কার্যালয়ে প্রবেশ করার পর থেকে তিনি সেখানেই আছেন। দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ জীবন-যাপন প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গত ৯ই এপ্রিল দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করার পর আর বের হতে পারছি না। বের হলেই পুলিশের গ্রেপ্তার করার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, দলীয় কার্যালয় থেকে বের হলেই গ্রেপ্তার করা হবে। তবে কার্যালয়ের ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করবে না। এজন্যই দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছি। ’৮৫-’৮৬ সালের এই ছাত্রদল সভাপতি বলেন, মানুষ কারাগারে বন্দি জীবন-যাপন করেন। আর অনেকে বলে, আমি অফিসবন্দি। আসলে আমি নতুন ধরনের এক বন্দিজীবন-যাপন করছি। আপনার বিরুদ্ধে তো কোন ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। তারপরও গ্রেপ্তারের ভয় কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয় থেকে বের হলেই গ্রেপ্তার করে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এর আগে বিএনপির পাঁচজন যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, সালাউদ্দিন আহমেদ ও মো. শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সালাউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের মামলা বা গ্রেপ্তারির পরোয়ানা ছিল না। তারপরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে পত্রিকার কার্যালয়ে বন্দি থাকার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ মন্তব্য করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকার আইন মানছে না, সংবিধান মানছে না। তারা এখন স্বৈরাচারী আচরণ করছে। দেশের মানুষের এখন মৌলিক অধিকার নেই। 

 

কবির কবরে বিনম্র শ্রদ্ধা

PDFPrintE-mail

বাংলাদেশ সংবাদ - Political news

Saturday, 25 May 2013 09:30

কবির কবরে বিনম্র শ্রদ্ধা
শনিবার, ২৫ মে ২০১৩

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরাসহ অনেকে। কবির ১১৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবিকে শ্রদ্ধা জানাতে আজ সকাল ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে তার কবরের কাছে জড়ো হন শুভানুধ্যায়িরা। সেখানে কবির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো শেষে দোয়া-মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

 
 

Page 1 of 330

Historic words of 2011

Facebook like Icon